প্রায় কোটি টাকার ঘুষের দাবি, সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ
১৭ আগস্ট নামজারি বাতিল—তারপরও আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি?
স্টাফ রিপোর্টার :
আদালতের স্থগিতাদেশ অগ্রাহ্য করে নামজারি—পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে তা বাতিল; তবু বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ! ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের নামজারি মামলা ১২৬৯১/২৫-২৬ ঘিরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের স্থগিতাদেশ ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান থাকার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি করা হয়। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারির সুবিধাভোগী রাম আনন্দ মন্ডল। বিষয়টি নিয়ে আপিল হলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকার কর্তৃপক্ষ ১৭ আগস্ট ২০২৬ শুনানি শেষে নামজারি বাতিলের আদেশ দেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। কিন্তু বাতিল আদেশের পরও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে আটকে আছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত?
স্থগিতাদেশের পরও অনুমোদন!
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোঃ মাহামুদুল হাসান মুরাদ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও চলমান ছিল।
তারপরও ২৯ এপ্রিল নামজারি সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের নির্দেশনা ও চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম বিবেচনায় না নিয়েই কি নামজারি অনুমোদন করা হয়েছিল?
নামজারি প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না এবং থাকলে কী কারণে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হলো—তা তদন্তের দাবি রাখে।
বাতিল আদেশের পরও গড়িমসি?
অভিযোগকারীর দাবি, আপিল কর্তৃপক্ষের বাতিল আদেশের পরও সেটি বাস্তবায়নে ডেমরা রাজস্ব সার্কেল থেকে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, একজন অধস্তন কর্মকর্তার দপ্তরে কি ঊর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের আদেশও কার্যকর হতে সময় লাগে?
নামজারি বাতিলের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার এবং বিলম্বের প্রশাসনিক কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি জমি যাচ্ছে ব্যক্তির নামে?
অভিযোগপত্রে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে—ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের একটি অংশের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সত্য হলে এর প্রভাব একটি ব্যক্তিগত জমি বিরোধের চেয়েও অনেক বড়। কারণ সরকারি সম্পত্তি ভুলভাবে ব্যক্তি মালিকানায় চলে গেলে রাষ্ট্রের সম্পদ যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি প্রকৃত ভূমিমালিকদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
‘সিন্ডিকেট’ কতটা সক্রিয়?
একটি নামজারি মামলাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগে এখন সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন—ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের নামজারি প্রক্রিয়ায় কোনো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না।
প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়ার দাবি এবং বাতিল আদেশ বাস্তবায়নে কথিত গড়িমসি—তিনটি অভিযোগই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
বিশেষ করে ১২৬৯১/২৫-২৬ নম্বর মামলার সম্পূর্ণ নথি, আদালতের স্থগিতাদেশ, নামজারি আদেশ এবং ১৭ আগস্টের বাতিল আদেশ পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল মোঃ রাকিবুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।