সাংবাদিককে পেটাল জনতা, মাদক মামলা দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক সাংবাদিককে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে তার কাছ থেকে ১৯টি ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তোফাজ্জল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের গৌরীপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর উপজেলার ভৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের বাড়িতে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফাজ্জলকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপর আশরাফুল আলম কৌশলে পালিয়ে যান।

পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তোফাজ্জলের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ।

আটক তোফাজ্জলকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উত্তেজিত জনতার মারধরে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে আটক তোফাজ্জল ও পলাতক আশরাফুলকে আসামি করে মাদক আইনে মামলা করে। এজাহার অনুযায়ী, পলাতক আশরাফুলের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন।

তবে স্থানীয় সাংবাদিক ও পরিবারের দাবি, তোফাজ্জল ষড়যন্ত্রের শিকার। গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি শাহজাহান কবির হীরা বলেন, ‘তোফাজ্জল ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি জীবনে কখনও ধূমপান করেননি, তার কাছে ইয়াবা আসবে কীভাবে? ঘটনার শুরুতে ওসি আমাদের জানিয়েছিলেন তোফাজ্জলের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরে তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো হলো।’

সাংবাদিক সংগঠনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, তোফাজ্জলকে যে বাড়ি থেকে স্থানীয় জনতা আটক করেছে, সেই বাড়ির মালিক আশরাফুল একাধিক মাদক মামলার আসামি। বিক্ষুব্ধ জনতা তোফাজ্জলের কাছে মাদক পেয়েছে বলে তার নামে মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *