নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে ঢাকায় সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ রিভার (RIVER) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
বরিশালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় ও প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাবেক সিটি মেয়রের সাথে আতিকুলের ঘনিষ্ঠ সখ্যতা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক দাপট ব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
বিগত সরকারের পতনের পরও বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে আতিকুল ইসলাম সদর দপ্তরের ওয়ার্কশপ ভবনের লেভেল-৩ এ অবস্থিত রিভার (Resilient Infrastructure for Adaptation and Vulnerability Reduction) প্রকল্পের পিডি পদ বাগিয়ে নেন। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, তিনি বর্তমানেও আওয়ামী পন্থী
ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন এবং অধিদপ্তরে স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। একজন চিহ্নিত বিতর্কিত কর্মকর্তাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ায় এলজিইডিতে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর চারিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা গেছে, নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ফুলকাম বাদশার স্ত্রী থাইল্যান্ডে থাকার সুযোগে আতিকুল প্রায়ই সেখানে যাতায়াত করতেন। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে নিয়মিত নারীদের নিয়ে সময় কাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদেশে পাচার ও অবৈধ সম্পদ:
আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে তিনি স্ত্রী-সন্তানের নামে সেখানে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।বিগত সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহু অভিযোগ রাজনৈতিক প্রভাবে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এলজিইডির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আতিকুল ইসলামের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন