পর্ব-১ ঘুষ বাণিজ্য, বিদ্যুৎ চুরি ও ক্ষমতার অপব্যবহার ​ডিপিডিসি বাংলাবাজারে ‘জাহাঙ্গীর রাজত্ব’: শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

 

​নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
​ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস (এনওসিএস) বাংলাবাজার দপ্তরটি যেন এখন এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদ্যুৎ চুরি, বেআইনি সংযোগ অনুমোদন ও সিস্টেম বাইপাসের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। বাংলাবাজার কার্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় দাপ্তরিক কাজের বড় একটি সময় কাটে চিহ্নিত দালাল সিন্ডিকেটের সাথে এবং গ্রাহকসেবার ফাইল ছাড়ানো থেকে শুরু করে নতুন সংযোগ লাভ—সবকিছুতেই নির্দিষ্ট এই চক্রকে নির্ধারিত হারে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান যে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কিংবা তার অপকর্ম নিয়ে কোনো কথা বললেই পড়তে হয় চরম প্রশাসনিক হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলির মুখে, আর এই অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে উর্ধ্বতন কর্তারাও তার বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে ডিপিডিসি আওতাধীন বাণিজ্যিক গ্রাহকদের উচ্চচাপ (High Voltage) সংযোগের বিপরীতে সোলার প্ল্যান্ট ও সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ নিজের অনুগত ঠিকাদারি চক্রকে পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেন, তবে তার সবচেয়ে বড় জালিয়াতি চলত সংযোগের মূল ধরন বদলে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চচাপ সংযোগকে নিম্নচাপ (Low Voltage) বানিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে।
​সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বে বংশাল দপ্তরে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ডিপিডিসির সাবেক এক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার (সোনা মনি চাকমা) বিশেষ আশকারায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি এবং সে সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সংযোগের বিনিময়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনায় এলেও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে যে বেআইনি উপায়ে উপার্জিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে নিজ, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) ও সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও মূল্যবান বাণিজ্যিক জমির মালিকানা গড়ে তুলেছেন এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্য এক্সজিও, প্রিমিও ও পাজারোসহ একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় করেছেন। ডিপিডিসির মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন জালিয়াতি, ক্ষমতার দাপট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা, যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। (অভিযুক্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে…)….চলবে

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *