নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাফিয়ার রহমান টুটুল দায় স্বীকার করেছেন। বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি এলাকা থেকে টুকুলকে গ্রেফতার করে পিবিআই সদস্যরা। তিনি শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার মোসলেম আলীর ছেলে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত আল আমিন শহরের পূর্ববারান্দী মালোপাড়া লিচুতলা এলাকার বাসিন্দা ও শহরের চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টির একজন কারিগর। গত ২০ আগস্ট সকালে দোকান খোলার পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। অসুস্থ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হলে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার মা আয়শা বেগম জানতে পারেন, বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় আল আমিনের লাশ পড়ে রয়েছে। পরে লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২১ আগস্ট রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্বে পায়। তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামি টুটুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পিবিআই যশোরের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারের পর টুটুলের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে যশোর শহরের নাজিরশংকরপুর কোল্ড স্টোরেজের পেছনে তল্লাশি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার টুটুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।