রংপুরে চার খুন মুগ্ধ-সিদ্ধার্থকে জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন তাদের তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ।

দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে সোমবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম শুনানি শেষে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের এ অনুমতি দেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই ও মিলিয়ে দেখার জন্য দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, শুনানির সময় বিচারক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশের বক্তব্য শোনেন। আসামিদের আইনজীবীদের বক্তব্যও শোনা হয়। পরে বিচারক তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আসামিরা ইতিমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এ পর্যায়ে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি
সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা জানতে তাদের ইউরিন, রক্ত, চুলসহ চার ধরনের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিল পুলিশ। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর রোববার দুপুরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সহায়তায় নমুনা সংগ্রহ করে।

তবে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে শুধু ইউরিন পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে দুই আসামির ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, পরীক্ষায় ইউরিনে এমফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ডোপ টেস্টে দুই আসামির শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

যেভাবে চারজনকে হত্যার কথা জানিয়েছিল পুলিশ
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা ও প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেছিলেন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছিল, ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮ থেকে ৯টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের ডোপ টেস্টে এমফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *