চুয়াডাঙ্গায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল; আটক ৩

আজাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :

চুয়াডাঙ্গায় কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণ ও ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে আপত্তিকর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুন্দিপুর গ্রামের কাদের ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলী (৪৫) একই এলাকার মন্ডল পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে জনি (২১) ও আবদুল কাদেরের ছেলে পলাশ (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ওই কিশোরী ছাগল আনার জন্য মাঠে যায়। এসময় পলাতক আসামি মিরাজ তাকে তার গলায় চাকু ধরে জোর করে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। অপর আসামি পলাশ ধর্ষণের ওই দৃশ্য তার মোবাইলে রেকর্ড করে। অভিযুক্ত জনি তাদেরকে ভুট্টা ক্ষেতের বাইরে পাহারা দেয়।‌ পরে সংঘবদ্ধ ওই ধর্ষকরা মেয়েটিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলে, ‘এই কথা কাউকে বললে এই ভিডিওটি নেটে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।’ কয়েকদিন পরে আসামিদের মোবাইল থেকে ধর্ষণের ওই ভিডিওটি বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটির পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে, আসামি পলাশ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপর আসামি আব্দুল আলী আবার সামাজিকভাবে মিমাংসাসহ ভিডিও সরাতে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়। আজ মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে, একই সঙ্গে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশী

অভিযান চলমান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *