নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমালোচনা বা জনআকাঙ্ক্ষাকে কোনো ধরনের চাপ হিসেবে দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামিম কায়সার লিংকন।
তিনি জানান, মানুষের পক্ষ থেকে পরামর্শ, আশঙ্কা কিংবা সমালোচনা আসা জরুরি। এগুলোকে গঠনমূলকভাবে সরকারের ওপর থাকা ‘প্রেসার’ হিসেবে দেখছেন তারা, যাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভুলত্রুটি না হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শামিম কায়সার লিংকন বলেন, ধর্মমন্ত্রী অসুস্থতার কারণে নিজে ফটিকছড়িতে আসতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে এখানে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহর সঙ্গে আমার নিজেরও দেখা করার খুব শখ ও ইচ্ছা ছিল। আল ইলমু লা ইয়ুজার, বাল ইউজার—জ্ঞান কারও কাছে এসে পৌঁছায় না, বরং জ্ঞানের কাছে জিয়ারত করে যেতে হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমার চিন্তা ছিল যত দ্রুত সম্ভব তার কাছে এসে দেখা করে দোয়া নিয়ে যাওয়া।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। অনেক সময় ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারেরও নজির দেখা যায়। এসব বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শামিম কায়সার লিংকন বলেন, বরং আমরা মনে করি, গঠনমূলকভাবে এই প্রেসারটা আমাদের ওপর থাকা উচিত। এতে আমাদের দ্বারা কোনো ধরনের ভুলত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে। মানুষের কথা শোনা এবং সেগুলো ফেস করা আমাদের জন্য জরুরি, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলত্রুটি না হয়।
তবে, হেফাজতের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়ে আপত্তি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী ওই বিবৃতিতে তার নিয়োগের প্রতিবাদ জানান।
হেফাজতের ভাষ্য, শামীম কায়সার লিংকন দেশের প্রচলিত পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চার মাযহাবের চেতনার বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী।