শরীরচর্চা করতে গিয়ে বুকে ব্যথা? কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

লাইফস্টাইল :

শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। হৃদযন্ত্র ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবিটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করে হঠাৎ অতিরিক্ত পরিশ্রম শুরু করলে উলটো বিপদও হতে পারে। ব্যায়াম শুরু করার আগে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বোঝা এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো জরুরি।

হঠাৎ বেশি পরিশ্রমে বাড়তে পারে ঝুঁকি

দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করার পর আচমকা দ্রুত দৌড়ানো, ভারী ওজন তোলা বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম শুরু করলে শরীরের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

নিজের সক্ষমতার তুলনায় বেশি ওজন তোলা কিংবা ভুল কৌশলে ব্যায়াম করলেও শরীরে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ওয়েট ট্রেনিংয়ের সময় অতিরিক্ত ভারী ওজন তোলা এবং শ্বাস আটকে রাখার অভ্যাস রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘ বিরতির পর ব্যায়াম শুরু করলে প্রথমেই কঠিন ওয়ার্কআউটে না গিয়ে হালকা হাঁটা, ধীরে সাইক্লিং বা সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা ভালো। শরীরের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়াতে হবে।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের জোরালো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া বেশি বয়সি ব্যক্তি এবং যারা দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তাদেরও ধীরে ধীরে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ শরীরের ওপর বেশি চাপ দেওয়া ঠিক নয়।

ওয়েট ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওজন নির্বাচন করা এবং সঠিক কৌশল অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়ামের সময় যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

শরীরচর্চার সময় কিছু অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। যেমন—

বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা

হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া

অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্লান্তি

হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা অনুভব করা

এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে। উপসর্গ তীব্র হলে বা না কমলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ওয়ার্ম-আপ ও কুল-ডাউন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ব্যায়াম শুরুর আগে কয়েক মিনিট ওয়ার্ম-আপ করা শরীরকে ধীরে ধীরে শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত করে। হালকা হাঁটা, ধীরে শরীর নড়াচড়া করা বা সহজ স্ট্রেচিং দিয়ে ওয়ার্ম-আপ করা যায়। একইভাবে ব্যায়াম শেষ করেই হঠাৎ থেমে না গিয়ে কয়েক মিনিট হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা ভালো। এটিই কুল-ডাউন।

ধীরে বাড়ান ফিটনেস

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যায়ামের ওপরই নির্ভর করে না। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেসের মাত্রা, হৃদরোগের ইতিহাস এবং অন্যান্য ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ।তাই ব্যায়াম মানেই যত বেশি পরিশ্রম, তত বেশি উপকার—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং নিয়মিত, পরিমিত এবং নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম করাই নিরাপদ। দীর্ঘ বিরতির পর ব্যায়াম শুরু করলে ধীরে ধীরে সময় ও তীব্রতা বাড়ানো উচিত।

বিশেষ করে আগে থেকে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে কিংবা ব্যায়ামের সময় অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজের সিদ্ধান্তে ব্যায়াম চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *