ভারতে আবারও আন্দোলনের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

আন্তর্জাতিক ডেক্স:

কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, এই অভিযোগে আগামী পাঁচ সেপ্টেম্বর দিল্লির রাজপথে আবারও নামার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি। যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাসের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর বুধবার (২৬ আগস্ট) আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দলটি। তাদের ঘোষণা, ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দফতর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল হবে।

ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, যন্তর মন্তরের ধর্না প্রত্যাহারের আগে কেন্দ্র চারটি দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখনো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে, নিট কেলেঙ্কারির জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া ও দিল্লি পুলিশ এবং দাঙ্গা দমন বাহিনীর ক্ষমা চাওয়া।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ফের আন্দোলনের পথে হাঁটতে হচ্ছে। দলটির বার্তা, সবকিছু মনে রাখা হবে। পাশাপাশি ককরোচদের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

শুধু তিনটি দাবি নয়, সরকারের কাছে উত্থাপন করা আরও ১১টি প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার অভিযোগও করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের বক্তব্য, দিনের পর দিন প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সময় ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসে দলটির নেতৃত্ব। বৈঠকের পর তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চারটি দাবিই পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই ধর্না প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এখন দলের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেনি কেন্দ্র।

এদিকে পাঁচ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে দিল্লি পুলিশের অনুমতি পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পুলিশ সূত্রের খবর, এখনো পর্যন্ত ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে মিছিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়নি। অনুমতি চাওয়া হলেও ইন্ডিয়া গেটে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেই জানা গেছে।

পুলিশের বক্তব্য, ইন্ডিয়া গেট প্রতিবাদের স্থান নয়। সেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ফলে বড় জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি যান চলাচলও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পুলিশের আপত্তি বা অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পাঁচ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ককরোচ জনতা পার্টি।

দেশের অন্য প্রান্তেও বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। গত ১৫ আগস্ট থেকে গ্রামীণ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে স্কুল ঠিক করো কর্মসূচি শুরু করেছে তারা। রাজস্থানে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিরা আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার পর এবার জাতীয় আহ্বায়ক সৌরভ দাসকেও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা রসিকতার সুরে জানিয়েছেন দীপকে। তার বক্তব্য, মার খেয়েও তারা ফিরে আসেন। এবার সৌরভের পালা আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *