নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে তার সফরসঙ্গী যুবক।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মাঝামাঝি বিপদসংকুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আজমল হোসেন।
নিহত পর্যটক ইয়াছিন খান (২৭) ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের ২৫৫/১, মানিকদি বাজার-১২০৬ এলাকার মো. মোহন খানের ছেলে। তিনি ডিএমপির খিলক্ষেত আই.জে পেটিসি অ্যান্ড ক্যাফের প্রকিউরমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিখোঁজ পর্যটক ইব্রাহিম খান (২৪) ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের ২২৫/১, পূর্ব মানিকদি রোড-১২০৬-এর বাসিন্দা। তিনিও ডিএমপির খিলক্ষেত আই.জে পেটিসি অ্যান্ড ক্যাফের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি আজমল জানান, ঢাকার খিলক্ষেত আই.জে পেটিসি অ্যান্ড ক্যাফের ম্যানেজমেন্ট শাখার ১১ জন ২৩ আগস্ট সকাল ৮টায় বাস যোগে কক্সবাজারে আসেন। কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার ভিসতা-বে-রিসোর্টে ওঠেন তারা। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাত সহকর্মী লাবণীর জলতরঙ্গ হোটেলের সোজা সৈকত এলাকায় গোসলে নামেন। সেখানে গোসলে নামা বিপজ্জনক উল্লেখ করে লাল পতাকা টানানো ছিল। কিন্তু তা খেয়ালে না নিয়ে গোসলে নামার কিছু সময় পর তাদের পাঁচজন স্রোতে পড়ে বিপদাপন্ন হন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রাণান্তকর চেষ্টায় তীরে উঠে আসেন। তবে, ইয়াছিন ও ইব্রাহিম ওই এলাকায় তৈরি হওয়া গর্তে আটকে যান।
তিনি আরও জানান, তীরে আসা সহযাত্রীরা বিষয়টি লাইফগার্ডকে জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপদাপন্নদের উদ্ধারে নামেন। তাদের প্রচেষ্টায় ইয়াছিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপর সহযাত্রী ইব্রাহিমকে নানাভাবে চেষ্টা করেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা মিলে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
এসপি আজমল হোসেন জানান, নিহত ও নিখোঁজের পরিবারের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা কক্সবাজার আসছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।