বিশেষ প্রতিবেদক:
পোশাক খাতের আড়ালে অর্থ পাচার ও জালিয়াতির মারাত্মক অভিযোগের অনুসন্ধানী তথ্য ধামাচাপা দিতে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বাসায় ডেকে নিয়ে অপমান ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি বিতর্কিত খাতের ১২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তরের তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশের আগেই তা বন্ধ করতে এই অপচেষ্টা চালানো হয়।
গতকাল ১৮ আগস্ট বিকেল ৩:২৩ মিনিটে নোয়াখালী জেলা বোর্ড কলোনি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধানী খবরের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের স্বার্থে যোগাযোগ করা হলে, বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো চক্রান্তমূলকভাবে ডেলিকেট গ্রুপের সাবেক জিএম (অর্থ ও হিসাব) এবং বর্তমানে ‘আজকের সূর্যোদয়’ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও জাতীয় দৈনিক ‘সরেজমিন বার্তা’র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট খবির চৌধুরীকে বাসায় ডেকে এনে মানসিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ‘ডেলিকেট গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর নামে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শ্যামলী শাখার একটি হিসাব থেকে সম্প্রতি ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয় (চেক নং: IDE 14930802)। পরবর্তীতে ওই অর্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসির একটি অ্যাকাউন্টে জমা করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্যাংকিং খাতের বাইরে গিয়ে হুন্ডি ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সরানোর বিষয়ে ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে হাবিবুর রহমান অনুসন্ধান শুরু করেন।
পেশাগত নীতি মেনে ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের স্বার্থে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য (Right of Reply) নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়। তবে অভিযুক্তরা তাদের বক্তব্য বা ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো কৌশলে জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার বিশেষ প্রতিবেদক প্রবীণ সাংবাদিক খবির আহমেদ চৌধুরীকে এক আত্মীয়ের বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক আক্রমণের হুমকি এবং মানসিকভাবে অপমান করা হয়, যাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা না হয়।
জালিয়াতি ও সন্দেহজনক লেনদেনের চিত্র:
অনুসন্ধানী নথি ও ব্যাংক চেকের অনুলিপি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
• ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: শ্যামলী শাখা থেকে গত ১৬ এপ্রিল ১২ লাখ টাকার চেক অনুমোদন করা হয়, যেখানে হিসাব নম্বর ছিল ২০৫০২০৯০১০M253614।
• ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: উত্তোলিত অর্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে (হিসাব নম্বর: ৩২১ ১৫৯ ০০০০৫৪০) জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়।
• ক্ষমতার অপব্যবহার: পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা অবৈধ চ্যানেলে হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলাকালে ক্রাইম রিপোর্টার হাবিবুর রহমানকে কাছে না পেয়ে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক জিএম ও প্রবীণ সাংবাদিক খবির চৌধুরীকে নিজ বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। কে. এম. রাকিবুল হুদা, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম (সিআইডি)-কে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার কারণে তাকে এভাবে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, তথ্যের জবাব তথ্যে না দিয়ে এভাবে ভীতি প্রদর্শন করাই প্রমাণ করে যে অভিযোগগুলো শতভাগ সত্য।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।