নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী বিরোধী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, সীমাহীন দমন-পীড়ন, জেল-জুলুম ও নিজ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চরম ক্ষয়ক্ষতির কঠিন অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিক-বান্ধব রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জীবননগর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী। আসন্ন জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদিন পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে দিনরাত এক করে সাধারণ ভোটার, সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসন আমলে নিজের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ রাজনৈতিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে ত্যাগী এই বিএনপি নেতা জানান, রাজপথে দলের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রভাগে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে; তার বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০১৩ সালে প্রথম দফায় ৯ দিন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ-পরবর্তী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৯৩ দিনসহ জীবনের বহু মূল্যবান সময় তাকে অন্ধকার কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে, এমনকি আদালত থেকে জামিন লাভ করার পরও তাকে পুনরায় জেলগেট থেকে গ্রেফতার দেখিয়ে নতুন মামলায় জড়ানো হয়। তিনি আরও আবেগঘন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, স্বৈরাচারী শাসনামলে তার অর্জিত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে বারবার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হলেও, কোনো ভয়-ভীতি বা প্রলোভন তাকে আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। রাজপথের এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের পাশাপাশি বিগত দিনগুলোর মতোই তিনি আজও জীবননগর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মী-সমর্থকদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং বিপদ-আপদে পরম মমতায় তাদের অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শুধু দলীয় রাজনীতিতেই নয়, একজন উদার, মানবিক ও জনদরদী সমাজসেবক হিসেবে বিগত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অর্জিত নিজস্ব তহবিল থেকে পৌরসভার নিঃস্ব, গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ নানা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা নিশ্চিত করে আসছেন, যা তাকে পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করে জানান যে, ক্ষমতার কোনো প্রভাব বা সরকারি সুবিধা ছাড়া জনগণের ভালোবাসাকে সম্বল করেই তিনি মাঠে আছেন এবং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি তার শতভাগ শ্রদ্ধা রয়েছে, ফলে দল তার এই দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ, বিনয় ও নিরলস জনসেবার মূল্যায়ন করে তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী; তবে দল যাকে যোগ্য মনে করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, তিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে তার পক্ষেই দিনরাত কাজ করবেন।
জীবননগর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী আরে বলেন আল্লাহ তাআলা যদি তাকে জনগণের খেদমত করার সুযোগ দেন এবং পৌরবাসী তাদের মূল্যবান ভোটে বিজয়ী করে মেয়রের চেয়ারে বসায়, তবে দেশনায়ক ও দলীয় প্রধানের সুশাসনের সুনির্দিষ্ট বার্তা ও রূপকল্প বাস্তবায়নে জীবননগর পৌরসভাকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত, দখলদারিত্বমুক্ত, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ ও শান্তিময় এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কোনো প্রকার সিন্ডিকেট বা অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একই সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্র সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে জীবননগর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণী বা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, প্রতিটি মহল্লায় প্রশস্ত পাকা রাস্তা তৈরি, প্রতিটি রাস্তার মোড়ে আধুনিক স্ট্রিট লাইটিং বা ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন, পৌরসভার প্রতিটি বাড়িতে সুপেয় ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং আইটি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে একটি তিলোত্তমা, উন্নত ও আধুনিক জীবননগর পৌরসভা উপহার দিতে তিনি দলীয় নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের পৌরবাসীর দোয়া, সমর্থন, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।