ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক শফিক গ্রেফতার: ক্ষোভে ফুঁসছে গণমাধ্যম অবলিম্বে মুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-কে বিতর্কিত সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক ও গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও উদ্বেগের চরম ঝড় উঠেছে পুরো গণমাধ্যম পাড়ায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম, কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং অসাধু কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায়, কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে একজন পেশাদার সাংবাদিককে গ্রেফতার করার এই নজিরবিহীন ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন ও গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভেতরের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ চক্রের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশকে একতরফাভাবে ব্যবহার করতে তৎপর হয়ে ওঠে। সংবাদটি জনসমক্ষে আসার এক দিন না যেতেই শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউলের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের একটি দল অত্যন্ত কড়া তৎপরতা দেখিয়ে রাতারাতি আসামিকে খোঁজার নামে অভিযান চালায় এবং নিজ কর্মস্থল ও বাসস্থানের সংলগ্ন এলাকা থেকে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকের পর গভীর রাতে থানায় তাঁকে নেওয়ার সময় ও পরবর্তী পুলিশি হেফাজতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ও প্রচ্ছায়ায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অপমানজনক ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

অভিযোগ ও প্রতক্ষদোষীদের সূত্রে স্পষ্টভাবে জানা গেছে, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত এক সুবিধাবাদী সাংবাদিক এবং এই বিতর্কিত মামলার বাদী—যে কি না ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরেরই একজন নিম্ন্নপদস্থ বিতর্কিত কর্মচারী—যৌথভাবে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাফিজুর রহমান শফিককে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনা, মানসিক নির্যাতন ও চরম গালাগাল করেন এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অত্যন্ত জঘন্যভাবে তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরার অপরাধে ওই একই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে বাদী বানিয়ে এবং পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় গভীর রাতে দ্রুততম সময়ে মামলা রুজু করে সাংবাদিককে আটক করার এই নগ্ন কৌশলকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক সমাজ “সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলক, বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাবেদারি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
​সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে এভাবে অগণতান্ত্রিক ও অসংবিধানিক উপায়ে হয়রানি ও গ্রেফতার করার খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিরোধের আগুন জ্বলে উঠেছে। সাধারণ গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝোড়ো বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন একতরফা ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছেন। সিনিয়র অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা প্রকাশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, একটি সুনির্দিষ্ট সংবাদ প্রকাশের পর যেখানে প্রচলিত নিয়ম ও আইনের বিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য-মিথ্যা যাচাই করার কথা, সেখানে কোনো তদন্তের ধার না ধারে সংবাদ প্রকাশের মাত্র এক দিনের মাথায় একজন সিনিয়র প্রতিবেদককে গ্রেফতার করে হাজতে পুরে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, আইনসম্মত ও নৈতিক? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিক গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে যেভাবে অন্যায়ভাবে সত্য প্রকাশকারী স্বাধীন সাংবাদিকদের ওপর চরম দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক গ্রেফতার, গুম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো থাবা ও জেল-জুলুম চালানো হয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলেও কি রাষ্ট্রযন্ত্র সেই একই পুরনো অগণতান্ত্রিক ও তাবেদারির পথেই পরিচালিত হচ্ছে? বহু সাংবাদিক তীব্র আক্ষেপের সাথে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সারাদেশের সংবাদকর্মী ও সাধারণ জনগণ আশা করেছিলেন যে দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা, মুক্তচিন্তা ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের একটি ভীতিহীন পরিবেশ গড়ে উঠবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরতে পারবেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের একটি বিশেষ দুর্নীতিবাজ চক্র, কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একতরফা তাবেদারির কারণে সাংবাদিক সমাজের কপাল আবারও পুড়ছে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা আজও মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
​গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনসমূহ, প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ফোরামসমূহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের অপরাধে সাইবার সুরক্ষা আইনের মতো নিপীড়নমূলক ও বিতর্কিত আইনের অপব্যবহার করে মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এই অশুভ চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, পাশাপাশি থানার ভেতর ও পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করার কাজে জড়িত ওই কথিত টেলিভিশন সাংবাদিক ও মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তির জোর দাবি তুলেছেন। সর্বস্তরের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া না হলে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বাভাবিক পথ সুগম না করা হলে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সকল পেশাজীবী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নামা হবে এবং কঠোর থেকে আরও কঠোরতর গণ-আন্দোলন ও প্রশাসনিক বয়কটের মতো কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *