অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভনে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।এর আগে, গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং মো. জাবেদুল ইসলামকে (৩৮)।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালের সঙ্গে ইমো অ্যাপ ও অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র যোগাযোগ করে। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তার ও স্বজনদের বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র।

পরে গত ১৫ মার্চ এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ১৭ মে অভিযান চালিয়ে মো. খাইরুল ইসলাম এবং বিকাশ ডিএসও মো. জাবেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আসামিরা এবং পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এর আগে, শুক্রবার ভোরে পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন স্থান থেকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতা স্বপন কুমার রায়কে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ‘উৎসব ফার্মেসী’ নামে একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) শচীন চাকমা জানান, সরাইল থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের সময় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্র, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। পলাতক আসামি প্রাণ ইসলাম গ্রেপ্তার খাইরুল ইসলামকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘আরিফ মন্ডল’ ছদ্মনামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করাত। পরে এসব ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে প্রতারণার প্রচারণা চালানো হতো।

অপরদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে অবৈধ অর্থ ক্যাশ আউট ও লেনদেনে গোপন সহায়তা করতো। চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে বলেও জানায় পিবিআই।

এদিকে চক্রটির অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *