মধুখালীতে গণপিটুনি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরও বেপরোয়া দুই ‘কথিত’ সাংবাদিক!

ফরিদপুর প্রতিনিধি :

‎ফরিদপুরের মধুখালীতে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা ও দখলের অভিযোগে জুয়েল শরীফ ও রকিবুল ইসলাম মিঠু নামে দুই কথিত সাংবাদিকের চাঁদাবাজির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একের পর এক গণপিটুনির শিকার হওয়া এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো থেকে একাধিকবার অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরও তাদের অপতৎপরতা থামেনি। উল্টো মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় শিক্ষকদের নামে কুৎসা রটানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, জুয়েল শরীফ নিজেকে ‘বাংলাদেশ সমাচার’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও ‘শুকতারা মোবাইল টিভি’ একটি অনিবন্ধিত ফেইসবুক পেজ নামে এবং রকিবুল ইসলাম মিঠু নিজেকে ‘দৈনিক চিত্র’ ও একটি অনিবন্ধিত ফেইসবুক পেজ ‘এসটিবি’র উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

‎সম্প্রতি উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন এই দুজন। সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জুয়েল শরীফের মোটরসাইকেলে বসে রকিবুল ইসলাম মিঠু চাঁদা নিচ্ছেন এবং আলোচনা করছেন। এর আগেও উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের নিকট চাঁদা দাবি করলে, জনতার রোষানলে পড়েন তারা। গণপিটুনিতে মিঠু গুরুতর আহত হয় এবং গায়ের জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় । কোনো রকম প্রান নিয়ে পালিয়ে যান বলে জানা যায়। এছাড়া বাগাট গার্লস স্কুল এবং কামারখালী বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদাবাজির সময়ও তারা স্থানীয়দের হাতে গণধোলাই খেয়েছিলেন যার যথেষ্ট প্রমাণ ও সাক্ষী রয়েছে।

‎স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায় , কথিত সাংবাদিক জুয়েল শরীফ মূলত সরকারি আইনুদ্দিন কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক বার্ষিকী সম্পাদক এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় একাধিক মামলা ও রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অন্যতম প্রধান আসামি তিনি, যার সুনির্দিষ্ট প্রমান ও রয়েছে। এবং একটি মামলায় ৮২ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে তিনি এলাকায় পুনরায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।

‎অন্যদিকে, তার সহযোগী রকিবুল ইসলাম মিঠু নিজেকে বর্তমানে এনসিপি নেতা দাবি করলেও এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। যুবলীগ নেতা জুয়েলের হোন্ডার পেছনে ঘুরে তিনি থানা বানিজ‍্যসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত ও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা নিতেন এবং জুয়েলের ফোমের দোকানে বসে সেই চাঁদার টাকা ভাগাভাগি করতেন যা স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ।

‎এই দুই বিতর্কিত ব্যক্তির চাঁদাবাজির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মধুখালীর মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এবং স্থানীয় মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন করে জুয়েল শরীফ ও রকিবুল ইসলাম মিঠুকে এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে এই দুই কথিত সাংবাদিক মূলধারার সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা অত‍্যান্ত নিক্কারজনক ও মানহানিকর।

‎সম্প্রতি স্থানীয় রইছননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আক্কাস মাস্টারের নামে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তার সংবাদটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনাকে পুঁজি করে জুয়েল ও মিঠু সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে তারা উল্টো প্রচার করেন যে—উপজেলা প্রেসক্লাবের দুই শীর্ষ নেতা আক্কাস মাস্টারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অন্য সাংবাদিকদের টাকা দেননি, তাই এই নিউজ হয়েছে। এমন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানোর পর স্থানীয় সুধী সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎দৈনিক ফরিদপুর বার্তা ডটকম, জনজীবন টেলিভিশন এবং স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পেজে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্যে এই দুই কথিত সাংবাদিকের চাঁদাবাজির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই দুই কথিত সাংবাদিককে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণ এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *