স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালিয়ার্দোস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের লাশ আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে পড়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে স্পেনসহ দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনে শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আন্দালুসিয়া সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।

এদিকে, বেদার গ্রামের কাছে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের মধ্যে একজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরেকজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া চারজনকে ঘটনাস্থলেই সামান্য দগ্ধ ও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি বলছে, দাবানলের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত মে মাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি গ্রীষ্মে দাবানল মোকাবিলায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।  এদিকে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই)ও লস গালিয়ার্দোসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিচ্ছে।

চলতি বছরের জুনে স্পেনে ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মাসটির কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল।

ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্পেনে প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের তুলনায় এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছয় গুণেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। আর ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপজুড়ে দাবানল আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *