সামনের নির্বাচনে সংস্কার বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে: ইসি সানাউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত অনেক সুপারিশ পেয়েছি। এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা ও আলোচনা করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারব আশা করি। সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) এর যৌথ উদ্যোগে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে অবজার্ভ গ্রুপ ও অংশীজনদের মতামত নিয়েছি। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায় সে সুপারিশ আসবে আশা করি। গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি চলমান প্রক্রিয়া।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনেক সংস্থা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এ ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে বুধবার আলোচনা হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে তা আমরা মূল্যায়ন করছি, যাতে এ ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে পারি। আগামী দুদিন অংশীজন সংলাপে পাওয়া সুপারিশও আমরা কাজে লাগাবো। সামনে স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে, সবার সহযোগিতা কামনা করি।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে-পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা, সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। এ কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরও সুপারিশ আসবে আশা করি। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অংশীজনরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ এগিয়ে নিয়ে যাবে আশা করি।

ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ডেভেলপমেন্ট (ইপিডি) এর মাইকেল লিডাউয়ার স্বাগত বক্তব্যে জানান, ইতোমধ্যে অনেকে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। সবাইকে একত্রে নিয়ে এ কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে।

দুদিনের এ সংলাপে বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *