ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো?

লাইফস্টাইল :

প্রতিদিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানাবিধ উপকারও করে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। আবার ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহার করার ক্ষমতা এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। প্রশ্ন হলো কার্যকর ফলাফল পেতে রসুন কি কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্নায় রসুন ব্যবহার করাই ভালো?

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুন খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন উপাদানটি হলো এমন একটি সালফার যৌগ যা ইনসুলিনের নিঃসরণ এবং কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রসুন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে কাঁচা রসুন থেঁতো করে খেলে উপকার মিলবে। অনেকেই রসুন কাঁচা খেতে পারেন না। এর তীব্র গন্ধ অসহ্যকর।

তাহলে রসুন কীভাবে খাবেন? 
রসুন কাটার পরে বা থেঁতো করার পরে মিনিটে পাঁচেক রেখে দিন। এতে অ্যালিসিন যৌগটি তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া রসুন কুচি করেও নিতে পারেন। যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন, তাহলে থেঁতো করা বা কুচি কুচি করে কাটা রসুন রান্না মিশিয়ে খাওয়া যায়। রান্নার আগেও কাটা রসুন কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি সময় নিয়ে রসুন রান্না করা ঠিক নয়। এতে রসুনের উপকারী যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে বাড়তি উপকার তো মিলবেই না, বরং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *