আন্তর্জাতিক ডেক্স :
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বলা একটি শব্দ দেশটির ঐক্যে যতটা ফটল ধরিয়েছে, তা ৪০ দিনের যুদ্ধও করতে পারেনি। বিতর্ক তৈরি করা সেই শব্দটি হলো ‘আলাল-উসুল’। যার অর্থ- ‘নীতিগতভাবে’।
যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তি বা সমঝোতাকে অনুমোদন দেওয়ার ফার্সি ভাষার একটি বিবৃতিতে মোজতবা এই শব্দটি ব্যবহার করেন। চুক্তি অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি এই চুক্তি চাননি। বলেন, ‘নীতিগতভাবে, আমার ভিন্ন মত ছিল।
দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও শব্দটির রেশ এখনো তেহরানের ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র, গণমাধ্যম ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই শব্দটি ইরানকে একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করা আদৌ উচিত কি না?
শব্দটির নানা ব্যাখ্যা
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এমন এক শাসনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে। তবে সমঝোতা স্মারকের অনুমোদনে মোজতবার ওই শব্দের ব্যবহার অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। ফলে বিভিন্ন গোষ্ঠী এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে।
এক পক্ষের মতে, এই শব্দটি ইঙ্গিত দেয়- মোজতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর মতো সংশয়বাদী নেতা ভেঙে পড়া অর্থনীতি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে যুদ্ধের হুমকি এড়ানোর পথ হিসেবে কূটনীতিকে বেছে নিয়েছেন।
অন্য পক্ষের মতে, সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে ‘ভিন্ন মত’ উল্লেখ থাকাটা চুক্তি প্রতিহতের সবুজ সংকেতকে ইঙ্গিত করে। এই পক্ষের সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা একটি ফাঁদ। আলী খামেনিকে হত্যাকারী শত্রুদের কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। নতুন কোনো ছাড় দেওয়ার ফাঁদে না পড়ে ইরানের উচিত এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসা।