আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া রোমাঞ্চে স্বপ্নভঙ্গ ইরানের

স্পোর্টস ডেক্স :

একসঙ্গে দুটি ম্যাচ হওয়ায় জর্ডান আর আর্জেন্টিনা ম্যাচেই ফোকাস ছিল সমর্থকদের। প্রিয় দলের খেলা দেখার ফাঁকে উৎসুক অনেকে চ্যানেল ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছিলেন আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচের শেষাবস্থা। এই ম্যাচ নিয়ে একটা বাড়তি আকর্ষণ ছিল ইরানের কারণে। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার কেউ হেরে বিদায় নিলে ইরান যেত শেষ ৩২-তে। নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচটি ৩-৩ গোলের ড্র হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয় ইরানের। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া যৌথভাবে শেষ ৩২-তে উন্নীত হওয়ায় ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সন্দেহের রেখাপাত করে সমর্থক মনে।

তবে ম্যাচটি সমঝোতার ড্র বলে সন্দেহের অভিযোগ উড়িয়ে দেন অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক। তিনি তুড়ি মেরে অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও সমর্থকরা হয়তো চোখের দেখা ভুলতে পারবেন না। অবিশ্বাসের খচখচানিটা মাঝেমধ্যেই উঁকি দিতে পারে বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় তৃতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ ৩২-এ যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল ইরানের। শেষের তিনটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল তাদের রেসে টিকে থাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে ড্র করলেই আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার লাভ। এ রকম লাভজনক অবস্থানে থাকায় কারওই হারতে চাওয়ার কথা নয়। তেমন কিছু ঘটেওনি ম্যাচে।

অস্ট্রিয়া কোচ রালফ ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব উড়িয়ে দেন, ‘এমন একটা ম্যাচে স্কোরলাইন ৩-৩ হলে, বিশেষ করে শেষ ৯০ সেকেন্ডে যা হয়েছে, তা দেখার পর কেউই বলতে পারে না আগে থেকে সব ঠিক করা ছিল।’ তাঁর মতে, ‘শেষ ১৫ মিনিট যারা দেখেছে, তারা কেউই বলতে পারবে না যে সবাই ড্র চেয়েছিল। নিশ্চয় ৯৩ মিনিটে দুই দল মিলে ঠিক করেনি, চল, আমরা আরেকটা করে গোল করি।

কানসাস সিটিতে দুই ছোট দলের বড় ক্লাসিক ম্যাচ দেখেছে বিশ্বকাপ। ৬ গোলের উৎসবে পাল্লা দিয়ে ছুঁয়েছে একে অন্যকে। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে কোনোভাবেই আলাদা করা যাচ্ছিল না। হলিউডের কোনো থ্রিলার মুভির মতো ম্যাচটির শেষ দৃশ্য দেখে ঘোর কাটছিল না বিস্ময়ে। ২৮ মিনিটে মার্কো আর্নাউতোভিচ এগিয়ে দেন অস্ট্রিয়াকে। বিরতির ঠিক আগে বেলঘালির গোলে সমতায় ফেরে আলজেরিয়া। ৫৫ মিনিটে ডান দিক থেকে কনরাড লাইমারের একটি চমৎকার বল জালে জড়িয়ে দেন মার্সেল সাবিৎজার।

এই ব্যবধান ৫ মিনিট ধরে রাখতে পেরেছিল অস্ট্রিয়া। রিয়াদ মাহরেজ সাইক্লোনের গতিতে বল জালে জড়ান। ৯‍০ মিনিটের খেলা ২-২ গোলে সমতায় ছিল। শেষের নাটক ওখান থেকেই শুরু। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাহরেজ আরও একবার এগিয়ে নেন আলজেরিয়াকে। এর ঠিক তিন মিনিটের মাথায় বদলি নামা সাসা কালাদজিক হেডে গোল করে সমতায় শেষ করেন।

অস্ট্রিয়ার কোচের ভাষায়, ‘আমি ৪০ বছর ধরে কোচিং পেশায় আছি। আমার মনে পড়ছে না কোনো ম্যাচে এমন নাটক হয়েছে।’ আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচের মতে, ‘আমি খুশি যে এই ম্যাচে ফুটবল জিতেছে। ৩-৩ গোলের ড্রই তা বলে দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *