নিজস্ব প্রতিবেদক :
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে বিভিন্ন কর্মচারী কর্মকর্তা অনেকেই বনে গেছেন শূন্য থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক এবং রাষ্ট্র হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, বিমানবন্দরে রয়েছে একটি শক্তিশালী স্বর্ণ চোরাচালানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, আর এদের অধিকাংশই নেতৃত্ব দিচ্ছে কিছু অসাধু রাজস্ব কর্মকর্তারা, এদের বিরুদ্ধে জোরালো তথ্য-প্রমাণ ও একাধিক অভিযোগ থাকার পরও অবৈধ অর্থের প্রভাবে সবকিছু অদৃশ্য হয়ে যায় কারণ এই অবৈধ অর্থের ভাগ অধিকাংশ কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকে যায়।
ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ডিউটির নামে চোরাকারবারিদের প্রতিনিধি হয়ে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণপাচারে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছেন একাধিক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাবেক সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলমের নাম স্বর্ণ চোরাকারবারীর সাথে হাত মিলিয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগ আছে একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাব দেখান।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ছিল অভিযোগের পাহাড় কিন্তু কখনো কোনো শাস্তির আওতায় পড়েননি কেন ?কি তার ক্ষমতার উৎস?
কে এই শফিউল আলম?
বগুড়া শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নের আমজানি গ্রামের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের স্কুল শিক্ষক মোঃ আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে শফিউল আলম।২০১৯ সালে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে রংপুরে যোগদান করেন।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে, কর্মজীবনে যোগদানের পরপরই নানা অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করতে থাকেন ।অবৈধ অর্থ দিয়ে নিষিদ্ধ স্বর্ণের লোভে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বদলি হয়ে আসেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ব্যয় করে।
নিজেই তৈরি করেছিলেন বিমানবন্দরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।চোরাকারবারিদের সাথে স্বর্ণ দিয়ে সমঝোতা করতেন।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ জমা পড়ে কিন্তু অবৈধ অর্থ ও একটি বিশেষ মহলের প্রভাব দিয়ে সবকিছু সাময়িকভাবে ধামাচাপা দিয়েছিলেন।
তার সঙ্গে জড়িত ছিল বেশ কয়েকজন কর্মচারী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যার কারণে তিনি সবকিছুতে পার পেয়ে যেতেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সহ সরকারের সকল চাকরিজীবীকে তাদের আয়কর দিতে হয়, কারণ তাদের বেতন এবং অন্যান্য আয় করযোগ্য এবং আয়কর আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক হলেও শুধুমাত্র অবৈধ সম্পদের তথ্য ফাঁকি দেওয়ার জন্য শফিউল আলম নিজেই আয়কর দেন না এমনকি তার ও তার স্ত্রীর নামে নেই কোন টিন সার্টিফিকেট।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত যেই রাজস্ব কর্মকর্তা নিজেই সরকারকে আয়কর দেয় না সে কিভাবে সরকারের রাজস্ব আদায় করবে এবং সরকারি এই নীতিমালা উপেক্ষা ও অমান্য করার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুব দ্রুত জরুরী।
অভিযোগ আছে ঘুষ দুর্নীতি স্বর্ণ চোরা চালান করে অবৈধ অর্থ দিয়ে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। তবে তিনি নিজের নামে ও নিজ জন্মস্থান বগুড়া শিবগঞ্জে তেমন কিছু করেননি, তাদের বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীর কাছে জানতে চাইলে বলেন শুনেছি তিনি কাস্টমসের অনেক বড় কর্মকর্তা শফিউল আলম তবে গ্রামে তেমন একটা আসেন না, তবে মাঝেমধ্যে গাড়ি নিয়ে আসেন।তিনি অধিকাংশ সম্পদ ঢাকা ও তার শ্বশুর বাড়ি বগুড়া সদরে ক্রয় করেছেন ।শফিউল আলম বিবাহ করেছেন বগুড়া সদর পৌরসভার মধ্যপাড়া মল গ্রামের আমিনুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ শারমিন আক্তারকে।
রাজধানী ঢাকায় রয়েছে একাধিক দামি ফ্লাট প্লট চলাচলের জন্য রয়েছে একটি দামি গাড়ি যেটা ক্রয় করেছেন স্ত্রী শারমিন আক্তারের নামে।আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, সন্তান,শশুর, শাশুড়ি,সালা, সহ আরো আত্মীয়স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষ দুর্নীতি ও স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম, স্ত্রী শারমিন আক্তার, শাশুড়ি রাহেলা খাতুন,শশুর আমিনুল ইসলাম ও শালা মশিউর রহমানের নামে অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান শুরু করেছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে সম্পদ ও নগদ অর্থের হিসাব চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছে।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলমের দৃশ্যমান সম্পদের চিত্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন আসছে দ্বিতীয় পর্ব।