ড্র ম্যাচে ছায়া হয়ে থাকলেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেক্স :

ফুটবল বিশ্ব এখনও দুজন তারকা ফুটবলারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, একজন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, অন্যজন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ভিন্ন দুই দেশে খেলেও একে অন্যের অলিখিত প্রতিদ্বন্দ্বী। এই রেসে গত চার বছরে পর্তুগিজ স্টারকে যোজন যোজন পেছনে ফেলে মেসি পৌঁছে গেছেন অমরত্বের চূড়ায়, বিশ্বকাপ জিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। এই বিশ্বকাপেই তো আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত সূচনা দিয়েছেন মেসি। রোনালদো যা করতে পারেননি পর্তুগালের জন্য।

গতকাল বুধবার তাঁর দল ১-১ গোলে ড্র করেছে কঙ্গোর বিপক্ষে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ড্র জয়ের সমান। আর এই ড্র ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন ৯০ মিনিট।

মেসির মতো রোনালদোর ভক্ত বিশ্বজুড়েই। ইউসেবীয়র এই উত্তরসূরি তাঁর ভক্তদের খুশি করার মতো পারফরম্যান্স করতে পারলেন কিনা মনের গভীরে অজান্তেই উঁকি দেয় সে প্রশ্ন। ৯০ মিনিটের ম্যাচে রোনালদোকে বলের জোগান কম দেননি সতীর্থরা। ইএসপিএনের তথ্য মতে, ২৫ বার পায়ে বল গেলেও গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিতে পারেননি একটিও। লক্ষ্যভ্রষ্ট শট ছিল তিনটি। ৬.৭ রেটিং পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে রোনালদোকে। এই রেটিং কিংবদন্তির ফুটবলারের গড়পড়তা পারফরম্যান্সকে প্রকাশ করে। আসলে কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা যেভাবে পাহাড়ায় রেখেছিল তাঁকে, ভালো খেলার অন্তরায় ছিল তা। তাই এই বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে রোনালদোর ভক্তদের অতৃপ্তি নিয়েই অপেক্ষা করতে হবে পরের ম্যাচের জন্য। পর্তুগিজ কিং ফুটবলারের ‘কাম ব্যাক’ চেয়ে তারা কায়মনে প্রার্থনা করবেন হয়তো।

৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গোর গুছিয়ে খেলতে না পারলেও ঝটিকা আক্রমণে বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নিয়েছে ঠিকই। পর্তুগাল ম্যাচের ৬ মিনিটেই গোল পেয়ে যায়। মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস গোলটি করেন হেডে। নেতোর পাস থেকে বল জালে জড়ান তিনি। পর্তুগালের জার্সিতে এটি চতুর্থ গোল পিএসজির এই মিডফিল্ডারের। রোনালদোর দেশের পক্ষে যেদিন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তখনও পৃথিবীর আলো দেখা হয়নি নেভেসের। সেই কিংবদন্তির সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা ছেলেটির জন্য গর্বের

গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর অগ্রজের কাছ থেকে ভালোবাসা মিশ্রিত ছোঁয়াও পেয়েছেন জাতীয় দল অগ্রজের কাছ থেকে। ওই একবারই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পেরেছে পর্তুগাল। প্রথমার্ধে ৭৭ ভাগ বলের দখল রেখেও শেষরক্ষা হয়নি ইউরোপের দলটির। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা ক্রসে হেডে গোল করেন ইওয়ান উইসা। কর্নার থেকে পাস পেয়ে ক্রসটি দেন আর্থার মাসুয়াকু। পরের অর্ধে পর্তুগাল পালা করে আক্রমণ করেও কঙ্গোর প্রতিরোধের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। উল্টো একাধিকবার প্রতিপক্ষের ঝটিকা আক্রমণ ভয়ের সঞ্চার করেছে পুরো দলে। মেসির মতো ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নাম তোলার ম্যাচে বিবর্ণ থেকেছেন রোনালদো।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *