ছেলের সামনে বাসায় ঢুকে মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী ছেলের সামনে তার মা সানজিদা আক্তার রেশমিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে বাসায় ঢুকে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রেশমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। সেই সূত্রে দোকান ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও কয়েকজন নারী বুধবার রাতে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানজিদার ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার সময় বাসায় থাকা সানজিদার ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে সাব্বির বলেন, ‘কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।’

স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন এবং আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে। রেশমির সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন আরও কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেশমির বাসায় যান। সেখানে রেশমির সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *