মহা ধড়িবাজ জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মো. জামানুর রহমানের বিতর্কিত অতীত নিয়ে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল পদে থেকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে ক্ষমতা অপব্যবহার, ব্যাপক দুর্নীতি এবং ক্ষমতার পালাবদলে চরিত্র বদলানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী ও প্রভাবশালী এমপিদের বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রকৌশলী জামানুর রহমান নানা অনিয়ম ঘটিয়ে আসলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে প্রতিটি অভিযোগই রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে এমন একজন দুর্নীতিবাজ, নারী নির্যাতনকারী ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তা কীভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়ি এবং মেহেরপুরে শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সুবাদে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসানুল হক ইনু ও ফরহাদ হোসেনের আস্থাভাজন হিসেবে প্রকৌশলী জামানুর রহমান দপ্তরে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চতুর্থ গ্রেডের বেতন নিয়েছেন এবং তৎকালীন মন্ত্রীদের বিশেষ সুপারিশে পূর্বের তারিখে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। খুলনা সার্কেলেই টানা পাঁচ বছর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের ঠিকাদারি কাজ করিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজেকে রাতারাতি আওয়ামী বিরোধী সাজিয়ে প্রকৌশলী জামানুর রহমান পুরোনো সব অপরাধ ঢাকতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। অতীতে টুঙ্গিপাড়ার মাজারে ফুলের ডালি নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী এই কর্মকর্তা এখন নিজেকে বিএনপি সমর্থিত দাবি করছেন। অথচ কুষ্টিয়া ও খুলনার সার্কেল অফিসে কর্মরত থাকাকালীন প্রকৌশলী জামানুর রহমানের ভয়ে কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদার মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের ওপর নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন, হয়রানি এবং শাস্তিমূলক বদলির খড়্গ নেমে এসেছে।

তার কুকীর্তির সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়টি জুড়ে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারি ও এক তরুণীকে জোরপূর্বক মানসিক হাসপাতালে আটকে রাখার লোমহর্ষক ঘটনা। ২০২৩ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে এক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই তরুণী অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে শিকলবন্দি করে রাখার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়। পরবর্তীতে অজ্ঞাত সূত্রের ফোন পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও প্রকৌশলী জামানুর রহমানের এই রোমহর্ষক ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে।

এই গুরুতর অপরাধের জেরে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে প্রকৌশলী জামানুর রহমান সেই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করিয়ে নেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া তিন পৃষ্ঠার অভিযোগে তার চাকরি বাণিজ্য, অনিয়ম এবং নারী নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। বরখাস্তকালীন সময়ে জীবন ধারণ ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার বিধান না থাকলেও প্রকৌশলী জামানুর রহমান ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে এমন একজন দুর্নীতিবাজ, নারী নির্যাতনকারী ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তা কীভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *