কিউইদের ব্যাটিং তাণ্ডবে ভারতের বড় হার

স্পোর্টস ডেক্স :

সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছিল ভারত। তবে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রেকর্ড সংগ্রহ গড়ার পর জ্যাকব ডাফির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা।

শুক্রবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের করা সর্বোচ্চ সংগ্রহও এটি। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। ফলে ৮৭ রানের জয় পেয়েছে কিউইরা। তবে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

রানের ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের এই জয় তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম। চলতি বছর ইংল্যান্ডের কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত, যা এই সংস্করণে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম ওভারেই টিম সেইফার্টকে ফেরান মায়াঙ্ক যাদব। তবে দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ড্যারিল মিচেল। মায়াঙ্কের ওভারের প্রথম চার বলে ২০ রান তুললেও শেষ পর্যন্ত নিখুঁত ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি।

ফিন অ্যালেনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৬৭ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকেরা। অ্যালেন ৩১ রান করে অক্ষর প্যাটেলের শিকার হন। এরপর ১১তম ওভারে মায়াঙ্কের বলে আউট হন বেভন জ্যাকবস। ১১২ রানে চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।তবে সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন ফিলিপস ও ব্রেসওয়েল। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪০ বলে ১১৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটির মধ্যে এটিই দ্রুততম।

ব্রেসওয়েল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলেই তুলে নেন ১৬ রান। অন্যদিকে ১৬তম ওভারে নীতিশ কুমার রেড্ডিকে টানা চারটি ছক্কা মারেন ফিলিপস। পরের ওভারে মায়াঙ্কের বলে তিন ছক্কা হাঁকান ব্রেসওয়েল। মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে দুই ব্যাটার মিলে মারেন সাতটি ছক্কা।

মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ব্রেসওয়েল। ভারতের বিপক্ষে দ্রুততম ফিফটির তালিকায় এটি যৌথভাবে দ্বিতীয়। শেষ পর্যন্ত ৬৫ রান করে প্রিন্স যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রাখেন ফিলিপস। ৪৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। ৪৯ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন ফিলিপস। তার ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা।

শেষ ১০ ওভারে ১৫০ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। পুরো ইনিংসে ২০টি ছক্কা হাঁকায় তারা, যা টি-টোয়েন্টিতে দলটির নতুন রেকর্ড। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব তিনটি উইকেট নিলেও নীতিশ কুমার রেড্ডির বোলিং ছিল বেশ খরুচে। চার ওভারে ৬৪ রান দেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টিতে কোনো ভারতীয় বোলারের চতুর্থ সর্বোচ্চ খরুচে বোলিং।

২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম ওভারেই সাঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিশানকে সাজঘরে ফেরান ডাফি। অভিষেক শর্মা পালটা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ২৭ রানে ম্যাট ফিশারের বলে আউট হন তিনি। পাওয়ারপ্লের শেষ দিকে অ্যাডাম মিলনের বলে বোল্ড হন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। প্রথম ছয় ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৬ রান।

নবম ওভারে পরপর দুই উইকেট নিয়ে ভারতের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মিচেল স্যান্টনার। তার শিকার হন নীতিশ কুমার রেড্ডি ও অক্ষর প্যাটেল। এরপর নামান ধীর ১৩ বলে ২৮ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডাফির বলে ক্যাচ দিয়ে তার ইনিংসও শেষ হয়।

১২তম ওভারে ১২১ রানে আট উইকেট হারানোর পর ভারতের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন তিলক ভার্মা। প্রিন্স যাদব ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭২ রানেই থামে ভারতের ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ডাফি। ২৩ রান খরচায় চারটি উইকেট নেন তিনি। স্যান্টনারের শিকার দুটি উইকেট।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *