সাবানা হত্যা মামলায় আপন ভাইসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে সংঘটিত সাবানা হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লইয়ারকুল গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে ভুক্তভোগী সাবানাকে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। আলোচিত এ মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে।

এ হত্যা মামলায় মোট ১৪ জন আসামি ছিলেন। বিচার কার্যক্রম চলাকালে তিন আসামি সুরুক মিয়া, রাজা মিয়া ও ফারুক মিয়া মৃত্যুবরণ করায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার আদালত মামলার রায়ে ৩০২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়  প্রধান চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাসির মিয়া, বিলাল মিয়া, গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া। নাসির মিয়া ও বিলাল মিয়া আপন দুই ভাই এবং গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া নিহতের সৎ ভাই। এ ছাড়া মামলার অন্যান্য ধারায় আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা ও মামলার বাদী মায়া বেগমকে গুরুতর জখম করার অপরাধে মহিবুর রহমান অমৃতকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সেলিনা বেগমকে আঘাত করার অপরাধে জয়নাল মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হুকুমদাতা আসামি আবুল বাশারসহ আলী ইসলাম, হাসি বেগম, জাভেদ ও নাজমীন বেগমসহ অন্যান্য আসামি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন।

 

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মতিন জানান, সম্পত্তি ও সামান্য পানি নিষ্কাশনের বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাই-বোনদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *