ময়মনসিংহে সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসানের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলির খবরকে কেন্দ্র করে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ এবং কার্ড জমা দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. জাহিদ হাসান সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার মাধ্যমে চার শতাধিক মানুষকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিজিটিং কার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার কাজে যুক্ত রেখেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের টাকা দেওয়া হতো। তবে এই অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অর্থের উৎস কী, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ তৈরির পরিবর্তে মানুষকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কাজে যুক্ত রাখার অভিযোগটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

মো. জাহিদ হাসান ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব ছেড়ে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলি হয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একটি সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল পদে কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।

অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, ময়মনসিংহে কথিতভাবে চালু থাকা এ ধরনের ব্যবস্থা নতুন কর্মস্থলেও চালু হতে পারে। যদিও বারহাট্টায় এমন কোনো কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *