শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

লাইফস্টাইল :

বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে

ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।

দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *