নাতির বিরুদ্ধে দাদাকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী বাচ্চু (৬৭) নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নাতি রাব্বি মিয়ার (১৯) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে রাব্বি পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোকছেদ আলী পরিবার নিয়ে প্রায় ৪০ বছর ধরে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছেন। প্রতিবছর তিনি উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে তার বড় ভাই একাব্বর আলীর (৭৫) বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এবারও সোমবার তিনি ভাইয়ের বাড়িতে আসেন। একই দিন ঢাকা থেকে বেড়াতে আসেন একাব্বর আলীর বড় ছেলে মিঠু মিয়ার ছেলে রাব্বি মিয়া।

সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে মোকছেদ আলী ও তার নাতি রাব্বি একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে রাব্বি তার দাদা একাব্বর আলীকে ডাকাডাকি করেন। ঘুম থেকে উঠে একাব্বর আলী নাতির হাতে রক্তমাখা কিছু একটা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে ছোট ভাই মোকছেদ আলীকে গলা ও পায়ের অংশ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এ সময় একাব্বর আলী বাইরে এসে রাব্বিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে পালিয়ে যান রাব্বি। পরে সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাব্বর আলী ও মোকছেদ আলী ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া এলাকার সজর আলীর ছেলে।

একাব্বর আলী বলেন, ছোট ভাই মোকছেদের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। তাকে হত্যার ঘটনায় তারাও মর্মাহত। ঢাকায় থাকা ছেলে মিঠুকে ফোনে বিষয়টি জানালে সে জানায়, রাব্বি মাদকাসক্ত। মাদকের কারণে গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহতের ছেলে মোতালেব হোসেন বলেন, এক প্রতিবেশী ফোন করে তার বাবাকে গলা কেটে হত্যার খবর জানান। খবর পেয়ে সকালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *