নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ দাবি ও শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘এইচ. এম. আন্তর্জাতিক এজেন্সি’ নামক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী একজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী। তাঁর অন্যান্য ব্যবসা থাকায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের লাইসেন্সের কাজ তাঁর কর্মচারীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। সম্প্রতি তাঁর এক কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়ায়, তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে খালাস করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, যেসব কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্যগুলো এসেছিল, ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে কর্মচারীকে ডেকে কিছু টাকা ঘুষ নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
পরবর্তীতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ওপর শুল্ক ফাঁকি হয়েছে দাবি করে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাঁর কর্মচারীর পক্ষে প্রদান করা সম্পূর্ণ অসম্ভব বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাকিব কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো কর্মকর্তা হাত বাড়াতে বা কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে ভয় পান। এ ছাড়া রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদ বর্তমান ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) আমিনুল সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধেও কেউ অভিযোগ করার সাহস পায় না। অভিযোগপত্রে শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—অ্যালেন অ্যাপারেলস লিমিটেড (Alien Apparel Ltd), ইউরেনাস অ্যাপারেলস প্রাইভেট লিমিটেড (Uranus Apparels (Pvt.) Ltd) এবং কুইক অ্যাপারেলস লিমিটেড (QUICK APPARELS LIMITED)।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের প্রশ্ন, যদি পণ্যগুলোর শুল্ক ছাড়করণ হয়েই থাকে, তবে একা শুধু সিঅ্যান্ডএফ কেন দায়ী হবে? কুরিয়ার চাচা এবং মূল আমদানিকারক পক্ষও এর সঙ্গে সমানভাবে জড়িত। তাই এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।