১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ, যা ছিল সমগ্র জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই রেজিমেন্ট প্রতিরোধ শুরু না করলে বাংলাদেশ হয়তো আজও পাকিস্তানের অংশ হয়ে থাকত।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সিনিয়র টাইগার্স’ আয়োজিত অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গৌরবময় নাম। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বাধিক বীরত্বসূচক সাহসিকতার পুরস্কার অর্জন করে।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের যুদ্ধ, সমগ্র জাতির যুদ্ধ। ৭১-এর যুদ্ধ যারা দেখেনি, তারা জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় প্রত্যক্ষ করতে পারেনি। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।

স্পিকার বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের জীবন ছিল রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি মুহূর্তে তারা বিজয়ের প্রত্যাশা ও মৃত্যুর শঙ্কার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। বাঙালি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এ রেজিমেন্ট নেতৃত্ব দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নেতৃত্ব দিয়েছিল।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে নিজের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে অসীম সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এ রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সিনিয়র টাইগার্সদের পক্ষ থেকে স্পিকারকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সেনা কর্মকর্তারা, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *