নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের সচিব মীর আব্দুল বারেক পদমর্যাদায় ১৪তম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হলেও নিজ ও পরিবারের নামে গড়ে তুলেছেন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে, যার চেয়ারম্যান ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাভারের মাফিয়া ফখরুল আলম সমর। মীর বারেক তেঁতুলঝোড়ায় থাকাকালীন কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আত্মসাৎ করা এসব অর্থে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট কিনেছেন, আমিনবাজারে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্লট, হেমায়েতপুরে বাড়ি, সিংগাইরে জমি এবং সাভারের অভিজাত এলাকায় রয়েছে একাধিক প্লট বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির এই বরপুত্র বারেক আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে সমরের ভাই পরিচয় দিতেন। তাঁর দুর্নীতি ও আয়বহির্ভূত অঢেল সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও ওপরমহলকে ম্যানেজ করে সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে থেকে দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তাঁর খুঁটির জোর এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। তথ্য সংগ্রহের সূত্রে জানা যায়, মীর আব্দুল বারেক বিগত দিনে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের পর কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওপরমহলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বদলি হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখনো পর্যন্ত তিনি পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন। সেখানেও দুর্নীতির একক আধিপত্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনেকেই ভয় পান। নাম-ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন ইউপি সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মীর আব্দুল বারেক শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাই নন, তিনি একজন মাফিয়াও বটে।
তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর দুর্নীতির বিষয়ে কিছু বললেই কলকাতা থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন পলাতক ও গা ঢাকা দিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের পটপরিবর্তনের পরও পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, গভীর সখ্য ও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের নিজ এলাকা ধামসোনা ইউনিয়নে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দিতে তাঁর সঙ্গে যোগসাজশে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে স্থানান্তরিত হওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মীর আব্দুল বারেকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।