ডাবল ডায়াবেটিস’ কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে, জানুন লক্ষণসমূহ

লাইফস্টাইল :

ডায়াবেটিস সম্পর্কে কমবেশি সবারই ধারণা রয়েছে। তবে ‘ডাবল ডায়াবেটিস’ বা যুগ্ম ডায়াবেটিস সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। নাম শুনে মনে হতে পারে, এটি একই সঙ্গে দুই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে শব্দটি দিয়ে মূলত টাইপ ১ ডায়াবেটিসের পাশাপাশি শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার অবস্থাকে বোঝানো হয়।

ভারতের পারেলের গ্লেনিগ্ল্যামস হাসপাতালের ফিজিশিয়ান ও ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. আরতি উল্লালের মতে, ডাবল ডায়াবেটিস কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়। বরং টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে যখন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, তখন এই অবস্থাকে ডাবল ডায়াবেটিস বলা হয়। ইনসুলিন শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি আগের মতো সাড়া দেয় না। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরের আরও বেশি ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ডাবল ডায়াবেটিস কি টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস একসঙ্গে হওয়া?

ডা. আরতি উল্লালের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডাবল ডায়াবেটিস বলতে আলাদা দুটি রোগে আক্রান্ত হওয়াকে বোঝায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির টাইপ ১ ডায়াবেটিসের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দেখা দেয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি ইনসুলিনের প্রয়োজন হতে পারে।

কেন হয় ডাবল ডায়াবেটিস?

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। তবে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরেও পরবর্তী সময়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।

ওজন বেড়ে যাওয়া, পেটের অতিরিক্ত মেদ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, বংশগত প্রবণতা এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *