হরমুজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-আমিরাতের তেলবাহী জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সহায়তায় পরিচালিত জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ ব্যবস্থায় যুক্ত পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজে প্রতি রাতে হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটি। বিকল্প পথে তেল পরিবহণ বন্ধ করতে হামলা আরও জোরদারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।সোমবার (১২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি রোববার রাতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ছোট জাহাজ থেকে বড় ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণের এ ব্যবস্থায় যুক্ত জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালাচ্ছে ইরান।

রেজায়ি বলেন, ‘আপনারা তেল চোরাচালান করছেন। কিন্তু প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, আমরাই এটি পরিচালনা করি।’

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় আবার হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কেবল, তথ্যকেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবহণ করা হতো।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে ওমানের উপকূলসংলগ্ন পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ছোট জাহাজে করে তেল নিয়ে বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেসব ট্যাংকার ওমান উপসাগর দিয়ে প্রণালির বাইরে চলে যায়।

ইরানের হামলা এড়াতে অনেক জাহাজ রাতে চলাচল করে এবং নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখে। তেল স্থানান্তরের পর কিছু জাহাজ আবার নতুন করে তেল নিতে ফিরে আসে।

রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এ ব্যবস্থায় যুক্ত একাধিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়া দুটি ট্যাংকার এবং ওমানের সোহার বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজ রয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, সপ্তাহান্তে মাইনের আঘাতে তিনটি ট্যাংকার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় একটি জাহাজে আগুন লাগার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তবে ভিডিওতে সরাসরি মাইন বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *