বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, ব্যাপক স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন গ্রহণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন কাজের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম দক্ষ ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন ও কমিশন গ্রহণের বিষয়টি সামনে এনেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এসব অনিয়মের ফলে সরকারি অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও দরপত্র ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া না গেলে এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, চেয়ারম্যানের পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার নির্বাচন ও কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, কিছু দক্ষ ঠিকাদার তাঁদের প্রাপ্য কাজ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। তবে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের নথিপত্র, কাজের মূল্য, দরদাতাদের প্রস্তাব এবং কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানী সংশ্লিষ্টদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। এমনকি অভিযোগের প্রতিবাদ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হবে না—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও দাপ্তরিক নথি যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

বিআইডব্লিউটিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দরপত্র ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদার নির্বাচন, রাজস্ব আদায় এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। সরকারি রাজস্বের সুরক্ষা, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *