প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।

দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) নামে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ঢাকার দুই অংশকে যুক্ত করতে যাওয়া প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি শেষ মুহূর্তে অনুমোদন নাও পেতে পারে বলে জানা গেছে।

এমআরটি-৫-এর প্রায় সব কাজ এগিয়ে থাকায় এটি একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট উইং প্রেজেন্টেশনও তৈরি করে। তবে প্রকল্পটি অনুমোদনের পরিকল্পনা থেকে সরকার শেষ মুহূর্তে সরে আসার চিন্তা করছে। এই প্রকল্পের আগে অন্য একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় থাকা দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমআরটি-৫ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগেও যোগসাজশের অভিযোগ করেছে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কাওরান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দিতে যাবে মেট্রোরেল। পুরো পথে যেতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল পাতাল ও উড়ালপথে নির্মিত হবে। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার থাকবে পাতালপথে এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথে। রুটটিতে নির্মাণ করা হবে ১৫টি স্টেশন। এর মধ্যে ১১টি পাতাল এবং চারটি উড়াল স্টেশন। প্রকল্পের মোট ব্যয় হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা পড়ছে। পাতালপথের বড় অংশ থাকায় নির্মাণ ব্যয়ের চাপও বেশি।

শুরুতে ছয়টি কোচের ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চলবে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহণ করা যাবে। ডিএমটিসিএল-এর হিসাবে, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করতে পারবেন। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহামদ যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার যানজট কমাতে মেট্রোরেলের কোনো বিকল্প নেই। পর্যায়ক্রমে সব মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে হাঁটতে হবে। তবে এর সুফল তখনই পাওয়া যাবে যখন সব রুট চালু হবে।

সূত্র জানায়, পতিত সরকারের সময়ে প্রকল্পটির পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি পুনরায় পর্যালোচনা করে বিভিন্ন খাতের ব্যয় কমানো হয়। সর্বশেষ প্রস্তাবে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

তবে এই কমানো ব্যয়ের পুরোটা প্রকৃত সাশ্রয় নয়। বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জের মতো কিছু দায় প্রকল্পের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর পরিশোধযোগ্য সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ পরবর্তী সময়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অর্থ বিভাগ পরিশোধ করবে। ফলে প্রকল্পের হিসাব কমলেও এ দায় পুরোপুরি সরকারের বাইরে যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *