ফিলিস্তিনিদের সাড়ে ৯ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের ৯ হাজার ৫১৮টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা অথবা নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি কমিশন ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন’।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নোটিশের কারণে বহু স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও সম্পত্তি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন বাড়ি নির্মাণ, নাগরিক পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং জীবিকা নির্বাহের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর হাতে আসা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১৭৪টি নোটিশের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে আরও ৩৪৪টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে কমিশন জানিয়েছে, তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া  সব নোটিশের তথ্য নাও থাকতে পারে। কমিশন এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি আইনি ও মানবাধিকার সংগঠনের নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জেরুজালেম লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং সোসাইটি অব সেন্ট আইভস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া নোটিশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হেবরনে। সেখানে ২ হাজার ৬৯৭টি স্থাপনা ভাঙা বা নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর রয়েছে বেথলেহেমে ১ হাজার ৩১০টি, রামাল্লা ও আল-বিরেহ এলাকায় ১ হাজার ১১৮টি এবং জেরুজালেমে ৯২৯টি।

বছরভিত্তিক হিসাবেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৩৩টি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭০১।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে পশ্চিম তীরে প্রায় ১২ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৮টি স্থাপনা বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, এসব স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ।

ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণে স্থাপনা ভেঙে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্মাণের অনুমতি না থাকা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযান চলাকালে স্থাপনা ধ্বংস।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *