কুড়িগ্রামে এইচএসসি পরিক্ষায় ৯ কলেজে পাশ করেনি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফলাফল প্রকাশ হলে এ তথ্য জানা যায়। বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে শূন্য পাশের হার থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুড়িগ্রামে ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করেনি। আমরা অনুসন্ধান করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এতে কোনো পক্ষের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজে ২৪ জন, রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজে ১০ জন, একই উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ জন ও রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী।

এছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মডেল কলেজে ১৫ জন, নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পেয়ারা ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫ জন এবং একই উপজেলার চিলাখানা মডেল কলেজে ৪ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। একই সঙ্গে উলিপুর উপজেলার হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন এবং চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করতে পারেনি।উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের তিন পরীক্ষার্থীই বিবাহিত। সংসারের চাপের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা চাই সবাই পাশ করুক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকলে ভালো ফল করা কঠিন।

সিঙ্গার ডাবড়ীহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম জানান, তার প্রতিষ্ঠান ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ভালো ফলাফল করে আসলেও সরকার এখন পর্যন্ত এমপিও দেয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। গত বছর ৬ জন পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাশ করতে পারেনি। আর এবার ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করেছে। সবাই মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষকরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে। আমরা আগামীতে ভুল শুধরে নেব।

রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তুহিন পাটোয়ারী বলেন, কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সব শিক্ষক চলে গেছে। ফলে ক্লাসও হয় না, নতুন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয় না। মাঝে মধ্যে দু-একজন এসে পরীক্ষা দেয়। এখন কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক নেই।

এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, তারা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তারা বিস্তারিত অবগত নন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাশের হারে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ নিয়ে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *