স্পোর্টস ডেক্স :
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে আম্পায়ারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আলোচনার কেন্দ্রে ভারতের আম্পায়ার নীতিন মেনন। তার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা বাড়ে।ম্যাচের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার শুরুতেই বিতর্কের সূত্রপাত। মেহেদী হাসান মিরাজের করা প্রথম ওভারেই জন ক্যাম্পবেলের বিপক্ষে পরপর দুটি এলবিডব্লিউর আবেদন ওঠে। দুবারই সাড়া দেননি অনফিল্ড আম্পায়ার নীতিন মেনন। প্রথম আবেদনে বাংলাদেশ রিভিউ নিলে বলের ইমপ্যাক্ট ও স্টাম্পে লাগার ক্ষেত্রে আম্পায়ারস কল আসে। ফলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পরের বলেও আবেদন উঠলেও বাংলাদেশ আর রিভিউ নেয়নি।
নাঈম হাসানের বোলিংয়েও একই ধরনের হতাশার মুহূর্ত আসে। ব্রেন্ডন কিংয়ের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। বল ট্র্যাকিংয়ে স্টাম্পে লাগার ক্ষেত্রে আম্পায়ারস কল আসে। ফলে কিংও বেঁচে যান। এসব সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা বাড়লেও আম্পায়ারস কলের নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ব্রেন্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৫.১ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজ অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। ৮ উইকেটের এই জয়ে এক দিন হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে ক্যারিবীয়রা।
অথচ প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ২৪৫ রানে অলআউট হয় তারা। নাঈম হাসান নেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডও পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকেরা। মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। নাঈমের ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে উল্লেখ করার মতো প্রতিরোধ ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রোস্টন চেজ ৫ উইকেট এবং জোমেল ওয়ারিক্যান ৪ উইকেট নেন।
এই হারের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) লড়াইয়েও। ম্যাচের আগে ৫৫.৫৬ পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল বাংলাদেশ। হারের পর পয়েন্ট শতাংশ নেমে এসেছে ৪২.৮৬-এ, অবস্থানও নেমেছে পঞ্চম স্থানে। আর চতুর্থ স্তানে উঠে এসেছে ভারত!