চীনের কাছে নতি স্বীকার এমবাপ্পে, জন সিনাসহ ক্ষমা চাওয়া বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বজুড়ে তারকা ক্রীড়াবিদরা নিজেদের প্রায়ই সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ও সাহসী মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু চীনের প্রসঙ্গ আসলেই তাদের সেই বিদ্রোহী বা সাহসী রূপের দেখা মেলে না বললেই চলে। বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বিশাল বাজারের কথা মাথায় রেখে চীনের ক্ষেত্রে তারা যেন বরাবরই নীরবতা পালন করেন—নয়তো নিজেদের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সাম্প্রতিক ঘটনাটি এই বাস্তবতারই সর্বশেষ উদাহরণ।সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এমবাপ্পেকে নিয়ে একটি মিম ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের ছবির ওপর এই ফরাসি তারকার মুখাবয়ব বসানো হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে সেই মিম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাও সেতুংয়ের প্রসঙ্গ ওঠায় এমবাপ্পে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ (ডিকটেটর) বলে অভিহিত করেন।

এই মন্তব্য করার পরই বিপাকে পড়েন এমবাপ্পে। চীনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি তার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করে। এমনকি চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) স্প্যানিশ লা লিগার সম্প্রচার স্থগিত করায় বাধ্য হয়ে লিগ কর্তৃপক্ষকেও ক্ষমা চাইতে হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে এক বিবৃতিতে এমবাপ্পে লেখেন, ‘আমার মন্তব্যটি অবিবেচকের মতো ছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি যে এটি চীন এবং বিশ্বজুড়ে থাকা চীনা সম্প্রদায়ের বহু মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে। আমার কথায় যারা কষ্ট পেয়েছেন, আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। চীনা জনগণ এবং তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

লা লিগা কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে ফরাসি তারকার মন্তব্যের জন্য চীনা ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে, এগুলো তার ব্যক্তিগত মন্তব্য ছিল।

অতীতেও রয়েছে এমন বহু নজির 

এমবাপ্পেই প্রথম নন, এর আগেও বিশ্বখ্যাত অনেক ক্রীড়াবিদ চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে একই পথ বেছে নিয়েছেন। আমেরিকার বাস্কেটবল সুপারস্টার লেব্রন জেমসের ক্ষেত্রে বিষয়টি সবচেয়ে পরিষ্কার।

২০১৮ সালে জেমস ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি শুধু একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় নন, তাই সামাজিক ইস্যুতে তিনি ‘কখনো নীরব থাকবেন না’। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে সেই নীতি খাটে না। ২০১৯ সালে এনবিএ দল হিউস্টন রকেটের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার ড্যারিল মোরি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *