শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করলেন সাবেক শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সাবেক সহকারী শিক্ষিকাকে (৩৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। পরে আদালতের নির্দেশে ২০ অক্টোবর গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।

মামলার বাদী ওই নারী মুকসুদপুর উপজেলার ঝুটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা। তিনি প্রায় ৫ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কি কারণে চাকরি ছেড়েছেন তা জানা যায়নি। ওই শিক্ষিকার স্বামী পরিত্যক্তা।

অভিযুক্ত এস এম মাহাতাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি গ্রামের এস এম আকবার হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে মাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মাহাতাব উদ্দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে ওই নারী বিয়ের শর্ত দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মাহাতাব উদ্দিন। সেখানে গিয়ে ওই নারী বাড়িতে কাউকে দেখতে পাননি। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাহাতাব উদ্দিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরের দিন তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মাহাতাব উদ্দিন ওই নারীর বাবার বাড়িতে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন।

সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর ওই নারী বিয়ের বিষয় চূড়ান্ত করতে চাইলে মাহাতাব উদ্দিন তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির কথা অস্বীকার করেন। পরে নিরুপায় হয়ে ওই নারী আদালতে গিয়ে মামলা করেন।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের বক্তব্য নিতে তার মোবাইলে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি মাহাতাব নই। তিনি ফোন রেখে বাইরে গেছেন।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *