নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারতলা একটি রিসোর্টসহ ১৩টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কউকের সচিব সানজিদা বেগম।
সানজিদা বেগম বলেন, এটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান অভিযানের অংশ, নতুন কোনো অভিযান নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে রিসোর্ট ভবনটির সামনে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) নিয়ে আসা হয়। সেখানে শ্রমিকেরাও উপস্থিত হন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করতে থাকেন। দুপুরের দিকে ভবনের নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চারতলা ভবনটির কাচ ভাঙা হয়। পরে মূল ভবনের পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।
অভিযান চলাকালে কউকের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নির্মিত রিসোর্টটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে অভিযান চালিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
তবে ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। এর আগেই সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।
নোটিশের জবাব না দেওয়ার বিষয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের পক্ষে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২০০টি রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। তার দাবি, এসব স্থাপনার কোনোটিরই অনুমোদন নেই।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্প্রতি কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।