নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খালেদ আহমদ (২৩) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশকে না জানিয়েই লাশ গোপনে বাড়িতে নিয়ে দাফনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবার পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এমনকি পুলিশকে না জানিয়েই লাশ গোপনে বাড়িতে নিয়ে দাফন করার চেষ্টা চলছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা সীমান্তের ১৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খালেদ আহমদ উপজেলার এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর একই উপজেলার সোনাখেড় সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে শাহিন আহমদ নামে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি ময়নুল হকের সঙ্গে খালেদ আহমদ দনা সীমান্তের মিকিরপাড়া এলাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আকুয়া এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে খালেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার লাশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছে পড়ে ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, নিহত খালেদ আহমদের ভাই সালাউদ্দিন বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছেন। সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তার ভাইকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে এবং তার লাশ মিকিরপাড়া এলাকার সীমান্তে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই থানা পুলিশ ও বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিজিবি লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দনা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।