অন্ধকারে সময় কাটাতে ভালো লাগে, এটি কীসের লক্ষণ?

লাইফস্টাইল :

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, কায়িক পরিশ্রম কিংবা তীব্র মানসিক চাপের পর অনেকেরই অন্ধকার ঘরে একা শান্তভাবে বসে থাকতে ভালো লাগে। আবার অনেকেই একে মানসিক অবসাদ কিংবা বিষণ্ণতার লক্ষণ মনে করে ভুল করেন। তবে মনোবিদরা বলছেন, অন্ধকার ঘরে স্বস্তি কিংবা আরাম খোঁজার এই বিশেষ প্রবৃত্তিটি কোনো মানসিক রোগ নয়; বরং একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘নিক্টোফিলিয়া’।সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটনি, কায়িক পরিশ্রম কিংবা মানসিক চাপের পর একটু ইচ্ছা হয় অন্ধকার ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে। তীব্র আলো, মোবাইল স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, কোলাহল আর পারিপার্শ্বিক নানা ব্যস্ততা মস্তিষ্ককে সবসময় সজাগ রাখে। এর বিপরীতে অন্ধকার বা মৃদু আলোর ঘরে বসার অর্থ হলো— বাহ্যিক উত্তেজনা বা স্টিমুলেশন থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া। কিন্তু এ অভ্যাস কি নিছকই আরাম, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সুখের চাবিকাঠি?

এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, এটিকে সেই অর্থে মানসিক রোগের পর্যায়ে ফেলা যায় না। বরং এটি হলো রাত কিংবা অন্ধকারকে ভালোবাসার একটি বর্ণনামূলক শব্দবন্ধ। মৃদু আলো কিংবা শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর অর্থ এই নয় যে, আপনার মানসিক কোনো সমস্যা রয়েছে। অধিকাংশ মানুষই রাতের সময়টিকে নিজের মতো করে কাটাতে পছন্দ করেন।

কারণ এই সময়ে চারপাশের কথোপকথন, ফোনের নোটিফিকেশন, কাজের তাড়া কিংবা মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই কমে যায়। অন্ধকার অনেক সময় মানুষের মধ্যে এক ধরনের গোপনীয়তার অনুভূতি তৈরি করে, যা মানসিক ও ইন্দ্রিয়গত অবসাদ বা ‘সেন্সরি ডিকম্প্রেশন’ দূর করতে সাহায্য করে। একসঙ্গে অনেক ভিস্যুয়াল বা দৃশ্যমান বিষয় প্রক্রিয়াজাত না করে কয়েক মিনিট নিঃশব্দে কাটালে মাথার ওপর অতিরিক্ত চাপের অনুভূতি অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। বিশেষ করে একটি মানসিক দিক থেকে ক্লান্তিকর দিনের পর শান্ত পরিবেশ তৈরি করার সহজ উপায় হলো এই অন্ধকার।

তবে অন্ধকার পছন্দ করা আর সামাজিক জীবন থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ও গভীর পার্থক্য রয়েছে। মনোবিদরা বলছেন, এই পার্থক্য লুকিয়ে থাকে মানুষ কেন অন্ধকারে আশ্রয় খুঁজছে এবং জীবনের ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে তার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *