স্পোর্টস ডেক্স :
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলোর ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকা আবাহনীর পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। গতকাল ক্লাবটির বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।বিদেশি ফুটবলারের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরামবাগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে এক বিদেশি খেলোয়াড়ের পাওনা বকেয়া ছিল। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ক্লাবটি। চলতি মাসের মধ্যেই বকেয়া অর্থ পরিশোধের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত মৌসুমে দীর্ঘ সময় ফিফার নিষেধাজ্ঞায় ছিল ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস। এই দুই ক্লাবের নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতার কারণে চলতি মৌসুমের ক্লাব লাইসেন্সিং ও খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময়সূচি কয়েক দফায় পিছিয়ে দিতে হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)।
নতুন মৌসুম শুরুর পরপরই আবারও ফিফার নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ঢাকা আবাহনী। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের নাম। নিয়ম অনুযায়ী, বকেয়া অর্থ পরিশোধ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারবে না।
ফিফার রেজিস্ট্রেশন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা বা ফাইল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ক্লাব ঢাকা আবাহনী ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের একটি করে ফাইল রয়েছে। অন্যদিকে, ফুটবলে বর্তমানে নিষ্ক্রিয় আজমপুর ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে তিনটি করে এবং সকার ক্লাব ফেনীর বিরুদ্ধে একটি ফাইল রয়েছে।
বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওনা সময়মতো পরিশোধ না করার কারণে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোকে বারবার এমন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে নতুন খেলোয়াড় দলে নেওয়া ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা, যা দেশের ঘরোয়া ফুটবলের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।